
ভূত বলে বাস্তবে কিছু আছে কি না, তা নিয়ে নানা কথা থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে গল্প, সিনেমা কিংবা টেলিভিশনে ভূতের নানা কাহিনি আমরা প্রায়ই দেখি। আবার বাস্তবে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে সেটিকে ঘিরেও তৈরি হয় নানা রহস্য ও গুঞ্জন।
এমনই এক রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর শ্যামপুরের ম্যাচ শিল্প এলাকায়। সেখানে মাসুদ ডাইং নামে একটি শাড়ি তৈরির কারখানায় শাহিন (৫০) নামে এক সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুকে ঘিরে কারখানার লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ‘ভূতের আক্রমণ’ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে দায়িত্ব পালন করার সময় শাহিন বাথরুমে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে বাথরুমের ভেতর তাকে পূর্ব দিকে মুখ করে সেজদারত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় তার শরীরের হাত, গলাসহ মোট তিনটি স্থানে কামড়ের মতো দাগ দেখা যায় বলে জানা গেছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, দাগগুলো দেখে ছোট কোনো শিশুর কামড়ের মতো মনে হয়েছে। তবে কেউ কেউ আবার এগুলোকে বিড়ালের কামড়ের মতো বলেও ধারণা করছেন। আরও অদ্ভুত বিষয় হলো, একটি সারির দাঁতের দাগ শরীরে স্পষ্ট থাকলেও অন্য সারির দাগ তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব দাগ আসলে কিসের, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগে থেকেই ‘শিশু’ দেখার দাবি
ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে শাহিনকে ঘিরে আগে থেকে শোনা কিছু কথা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গত রোজার ঈদের ছুটির সময় থেকে তিনি কারখানার আশপাশে একটি ছোট শিশুর চলাফেরা দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। শাহিনও নাকি তাকে একাধিকবার ওই শিশুর কথা বলেছিলেন।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য, শাহিন নিয়মিত নাইট ডিউটি করতেন। তাই রাতে কারখানার ভেতর ও ছাদে বিভিন্ন সময় তিনি অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেতেন বলে সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন।
কখনো ছাদে দুটি শিশুকে গোসল করতে দেখেছেন, আবার কখনো কারখানার ভেতরে একটি শিশুকে চলাফেরা করতে দেখেছেন—এমন কথাও নাকি শাহিন কয়েকজনের কাছে বলেছিলেন।
শাহিনের কথার সঙ্গে মৃত্যুর যোগসূত্র?
শাহিনের মৃত্যুর পর তার আগে বলা এসব কথাই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকের ধারণা, তিনি কথিত ওই শিশুর বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ করার কারণেই হয়তো তার কোনো ক্ষতি হয়েছে।
তবে এটি শুধুই স্থানীয়দের ধারণা ও গুঞ্জন। শাহিনের মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা তদন্তভিত্তিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
শাহিনের শরীরে পাওয়া দাগের প্রকৃত কারণ এবং তার মৃত্যুর আসল রহস্য তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চললেও এখন সবার অপেক্ষা—শাহিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? সত্যিই কি এর পেছনে কোনো রহস্য রয়েছে, নাকি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে—তা সময়ই বলে দেবে।
















