
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া চিকিৎসক ও সমাজকর্মী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (——) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, “আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। আজ ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন। দুঃখজনকভাবে আমার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। তবে আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব এবং ইতোমধ্যে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছি।”
যে কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাসনিম জারা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত মোট ভোটারের কমপক্ষে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তিনি বলেন, “যত সংখ্যক স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তার চেয়েও বেশি ভোটারের স্বাক্ষর আমি জমা দিয়েছি। সেখান থেকে নির্বাচন কমিশন ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করে। যাচাইয়ে দু’জনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন।”
তাসনিম জারার দাবি, ওই দু’জনের কেউই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেননি। বরং তারা দু’জনই নিজেদের ঢাকা-৯ আসনের ভোটার বলেই জানতেন।
তিনি আরও বলেন, “একজন ভোটার তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী নিজেকে ঢাকা-৯ এর ভোটার হিসেবে জানতেন। অন্যজন খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। খিলগাঁও এলাকা ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১—এই দুইটি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি মনে করেছিলেন তিনি ঢাকা-৯ এরই ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তিনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত।”
এই দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া বাকি সব তথ্য ও স্বাক্ষর সম্পূর্ণ সঠিক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাসনিম জারা বলেন,
“আমি অবশ্যই আপিল করব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতির যে লড়াইয়ে আমি নেমেছি, সেই লড়াই চালু থাকবে।”
শনিবার দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির সম্ভাব্য নির্বাচনী জোটের বিরোধিতা করে দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
হলফনামায় সম্পদ ও আয়ের বিবরণ
নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, নেই কোনো ঋণ, দায় কিংবা সরকারি পাওনা। তার নামে কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি বা অকৃষি জমিও নেই।
তার অলংকারের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ব্যাংকে তার নামে জমা রয়েছে ১০ হাজার ১৯ টাকা। হাতে নগদ রয়েছে ১৬ লাখ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা হিসেবে ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
হলফনামা অনুযায়ী, তার স্বামী খালেদা সাইফুল্লাহর হাতে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ টাকা এবং ৬ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।
তাসনিম জারা পেশায় একজন চিকিৎসক। চাকরি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। ব্যাংকে আমানত রয়েছে মাত্র ২৬৪ টাকা। দেশের বাইরে তার নিজস্ব আয় রয়েছে ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
তার স্বামী উদ্যোক্তা ও গবেষক। দেশের বাইরে তার বাৎসরিক আয় ৩৯ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
তাসনিম জারার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৭ অক্টোবর। তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। তার পিতার নাম ফখরুল হাসান এবং মাতার নাম আমেনা আক্তার দেওয়ান। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।














