
বরগুনার আমতলী উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর–কুকুয়া সড়কের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক হামলা সংঘটিত হয়।
গুরুতর আহত ব্যবসায়ী সোহাগ হাওলাদার বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ স্থানীয় কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির মাদক বিক্রিতে বাধা দেন সোহাগ হাওলাদার। সেই ঘটনার জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে তার চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে, এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। নির্মম এই হামলার পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পরপরই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো এলাকাকে উত্তপ্ত করে তোলে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত বরিশালে রেফার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
















