আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল লড়াই মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে এই দুই দলের ইতিহাসে এমন একটি ঘটনা আছে, যা তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সেটিই হলো ১৯৯০ বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ‘হলি ওয়াটার’ কেলেঙ্কারি।
ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। ম্যাচের আগে ফেভারিট ছিল ব্রাজিলই। কারণ গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই জিতে দারুণ ছন্দে ছিল সেলেসাওরা। অন্যদিকে, শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা শুরুতেই ক্যামেরুনের কাছে হেরে বিপাকে পড়ে যায়। পরে সোভিয়েত ইউনিয়নকে হারিয়ে এবং রোমানিয়ার সঙ্গে ড্র করে কষ্টেসৃষ্টে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
১০ জুন তুরিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। দুঙ্গা ও অ্যালেমাওয়ের নেতৃত্বে মিডফিল্ড দাপিয়ে বেড়ায় তারা। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ব্রাজিল। অন্যদিকে, ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছিলেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডাররা, বিশেষ করে লেফটব্যাক ব্রাংকো।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পেদ্রো ত্রগলিও ইনজুরিতে পড়লে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। আর এই বিরতির সময়ই ঘটে বিতর্কিত সেই ঘটনা।
ম্যাচ শেষে ব্রাংকো দাবি করেন, বিরতির সময় তিনি আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে এক বোতল পানি পান করেছিলেন। পানি পান করার কিছুক্ষণ পর থেকেই তিনি মাথা ঝিমঝিম করা ও অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেন।
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৮১ মিনিটে ম্যারাডোনা মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত এক দৌড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে দেন। তিনি বল বাড়িয়ে দেন ক্লদিও ক্যানিজিয়ার কাছে, আর ব্রাজিলের গোলরক্ষক ক্লদিও তাফারেলকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন ক্যানিজিয়া। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে।
ব্রাংকোর অভিযোগ সে সময় খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। যদিও তিনি যে আর্জেন্টিনার বেঞ্চ থেকে দেওয়া পানি পান করেছিলেন, সেটির প্রমাণ ছিল। তবে পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছিল কি না, তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট দলিল কখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে ২০০৫ সালে। আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দাবি করেন, ব্রাংকোকে দেওয়া পানিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল। তার এই মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
যদিও তৎকালীন আর্জেন্টিনা কোচ কার্লোস বিলার্দো অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেন এবং ম্যারাডোনাকে ‘বাস্তবে ফেরার’ পরামর্শ দেন। একইভাবে অভিযুক্ত ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোও পুরো ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড বেবেতো পরে বলেন, লরেঞ্জো ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে পুরো ঘটনা স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে বিতর্কটি আরও গভীর হয়।
সেই সময় ব্রাজিলের কোচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “এটা কোনোভাবেই খেলোয়াড়সুলভ আচরণ নয়। এটি সম্পূর্ণ নোংরা একটি ঘটনা। ১৪ বছর আগে হোক বা ১৪ দিন আগে, এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
তবে নানা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও স্বীকারোক্তির পরও আজ পর্যন্ত ‘হলি ওয়াটার’ কেলেঙ্কারির সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে ১৯৯০ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচটি এখনও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ও বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে রয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের…
পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ব্রিজে সার্টার ভেঙে দুর্ঘটনা এক শ্রমিক নিহত, তিনজন আহত; কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ**কলাপাড়া…
গত কয়েক মাসে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ — জেফরি এপস্টেইনের সাক্ষ্য, ইমেইল ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত নথিপত্র —…
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া চিকিৎসক ও সমাজকর্মী তাসনিম…
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক…
গত দুই আসরের হতাশা ও ব্যর্থতার স্মৃতি পেছনে ফেলে দারুণ এক জয়ে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ…