ফিফা র্যাংকিংয়ের পার্থক্য বিশাল—ভারত ১২৬, বাংলাদেশ ১৮৫। শক্তির বিচারে ফেভারিট ভারত, তাছাড়া খেলা ছিল ভারতেরই মাটিতে, শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। কিন্তু ম্যাচের ৯০ মিনিটে বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিল, ফুটবল শুধুই পরিসংখ্যানের খেলা নয়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। ফলে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্র হয়েছে।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার ৩০ সেকেন্ড না হতেই ভারতের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায় বাংলাদেশ। গোলরক্ষক বিশাল বায়েতের ভুলে বল পেয়ে যান মজিবুর রহমান জনি, কিন্তু কাটব্যাক করতে ব্যর্থ হওয়ায় হাতছাড়া হয় সুবর্ণ সুযোগ। এরপর ১০ মিনিটের মাথায় বিশাল আরও একবার ভুল করলে সুযোগ পান মোহাম্মদ হৃদয়। কিন্তু বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারেনি দ্বিতীয় সুযোগও।
ম্যাচের ১২ মিনিটের মধ্যে দুইবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করার পরও বাংলাদেশের আক্রমণ থামেনি। ১৯ মিনিটে ইমন হেড করলেও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বাংলাদেশের ধারাবাহিক চাপের মুখে ভারতের গ্যালারিতে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।
তবে ২২ মিনিটে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা আসে। অধিনায়ক তপু বর্মন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় বদলি হিসেবে নামেন রহমত মিয়া। এই পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ভারত। ২৮ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা।
প্রথমার্ধে ভারতের সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে ৩০ মিনিটে। উদান্তা সিংয়ের শট রুখে দেন বাংলাদেশের তরুণ ডিফেন্ডার শাকিল আহমেদ তপু। ফিরতি বলে ফারুক হাজির শট দারুণভাবে আটকে দেন মিতুল।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ৪২ মিনিটে। জনি একদম সামনে পেয়েছিলেন ভারতীয় গোলরক্ষককে, কিন্তু শট নেওয়ার আগেই বিশাল বায়েত এগিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারত খেলায় কিছুটা আধিপত্য দেখালেও বাংলাদেশ তাদের রক্ষণ আগলে রাখে দৃঢ়ভাবে। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন হামজা চৌধুরী, যার ফলে ভারত বারবার বাধাগ্রস্ত হয়।
শেষ ৫ মিনিটে দুইবার গোলের খুব কাছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৮৯ মিনিটে রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো থেকে ফিরতি বলে দারুণ সুযোগ পান ফাহিম, কিন্তু ভারতীয় গোলরক্ষক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রক্ষা করেন।
এর আগে ভারতও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। ৭৮ মিনিটে শুভাসিস বসুর হেড পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়, ৮৩ মিনিটে সুনীল ছেত্রীর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে দুই দলই গোলের দেখা পায়নি এবং ম্যাচ শেষ হয় ০-০ সমতায়।
গোলরক্ষক: মিতুল মারমা
ডিফেন্ডার: তপু বর্মন (অধিনায়ক) (রহমত মিয়া), তারিক কাজী, শাকিল আহমেদ তপু
মিডফিল্ডার: হামজা চৌধুরী, মোহাম্মদ হৃদয় (সোহেল রানা), মোরসালিন (সোহেল রানা-২), রাকিব হোসেন, সাদ উদ্দিন
ফরোয়ার্ড: মজিবুর রহমান জনি (ফাহিম), শাহরিয়ার ইমন (চন্দন)
ফিফা র্যাংকিং বা পরিসংখ্যান যাই বলুক, মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ভারতের সমকক্ষই ছিল, বরং বেশ কিছু মুহূর্তে এগিয়েও ছিল। গোলের দেখা না পেলেও এই ড্র বাংলাদেশ দলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো এক ফলাফল, যা ভবিষ্যতে আরও ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের…
পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ব্রিজে সার্টার ভেঙে দুর্ঘটনা এক শ্রমিক নিহত, তিনজন আহত; কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ**কলাপাড়া…
গত কয়েক মাসে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ — জেফরি এপস্টেইনের সাক্ষ্য, ইমেইল ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত নথিপত্র —…
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া চিকিৎসক ও সমাজকর্মী তাসনিম…
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক…
গত দুই আসরের হতাশা ও ব্যর্থতার স্মৃতি পেছনে ফেলে দারুণ এক জয়ে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ…